ওদের স্বপ্ন কি সফল হবে না?

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আদিবাসী পরিবারের হতদরিদ্র মেধাবী ৩ ছাত্রী তাপসী রানী মাহাতো, সপ্তমী রানী মাহাতো ও নিপু তির্কী সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েও দু'চোখে অন্ধকার দেখছে। আর্থিক অনটনের কারণে আদৌ তাদের পড়াশোনা আর চলবে কি-না তা নিয়ে তাদের পরিবারও চিন্তিত হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার বিষমডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ওই আদিবাসী তিন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পায়। তাদের মধ্যে তাপসী রানী মাহাতো বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেলেও উচ্চ শিক্ষা নিয়ে যারপরনাই চিন্তিত। তাপসীদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। বাবা তারাপদ মাহাতো একজন কৃষি শ্রমিক হিসেবে যা উপার্জন করেন, তা দিয়ে কোনোমতে ৫ সদস্যের সংসার চলে। অভাব-অনটনের সংসারে কুপির তেল কিনতে না পেরে রাতের পড়া দিনেই সারতে হয়েছে তাপসীকে। তার কৃষি শ্রমিক বাবার পক্ষে টাকা খরচ করে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সামর্থ্য নেই। অথচ তাপসীর ইচ্ছা ছিল পড়ালেখা করে একদিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করবে। একই প্রতিষ্ঠানের আরেক মেধাবী ছাত্রী সপ্তমী রানী মাহাতো জানায়, তাদের সংসারের অবস্থা শোচনীয়। আদিবাসী মা-বাবা উভয়ই কৃষি শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাড়াশ উপজেলার দত্তবাড়ি গ্রামের মা অঞ্জলী রানী মাহাতো ও বাবা নৃপেন্দ্রনাথ মাহাতো ৩ মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে দিন পার করছেন। অর্থের অভাবে সপ্তমীর কখনও প্রাইভেট পড়া হয়নি। একই জামা-কাপড় দিয়েই পরীক্ষা শেষ করতে হয়েছে। মা অঞ্জলী রানী মাহাতো বলেন, মেয়ে আমার নিজের চেষ্টায় ভালো করেছে। কিন্তু সপ্তমীর ফলাফলে তাদের খুশির বদলে কাঁদতে হয়েছে। কারণ তার মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে ডাক্তার করার আশা থাকলেও তার পরিবারের পক্ষে ভালো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর আর্থিক সঙ্গতি একেবারেই নেই। আরেক আদিবাসী মেধাবী শিক্ষার্থী নিপু তির্কী বিষমডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। অজপাড়াগাঁ ধলজান গ্রামের নিপু তির্কী, বাবা নিতাই তির্কী, মা রিনি ওঁরাও এবং আরেক বোন নন্দিতা তির্কীকে নিয়ে তাদের সংসার। পরিবারের ছোট মেয়ে নিপু তির্কী ও নন্দিতা তির্কী দু'জনেই পড়াশোনা করে। অভাব-অনটনের সংসারে দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালালেও মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পারেননি বাবা নিতাই তির্কী। বিষমডাঙ্গা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় বাড়িতে কাজের ফাঁকে নিপু নিজের অদম্য ইচ্ছায় শত অভাব-অনটনের মাঝেও প্রতিদিন ৪-৬ ঘণ্টা নিয়মিত পড়াশোনা করে জিপিএ ৫ পায়। ৪ সদস্যের সংসারে নিপু দ্বিতীয় সন্তান। তার ফলাফলে ওই পরিবারে আনন্দের বদলে বিষাদ নেমে এসেছে। কোনোক্রমেই দিনমজুর মা-বাবার পক্ষে মেয়েকে ভালো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সামর্থ্য নেই। নিপু তির্কী বলেন, পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে বাড়িতে কাজ করলেও এখন তা সম্ভব নয়। আর তার পরিবারের পক্ষে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে অর্থ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও হতদরিদ্র আদিবাসী পরিবারের ওই মেধাবী তিন শিক্ষার্থীর আশা_ দেশের কোনো বিত্তবান বা প্রতিষ্ঠান তাদের স্বপ্ন পূরণে হয়তো এগিয়ে আসবেন।

 এম আতিকুল ইসলাম বুলবুল তাড়াশ

0 Comment "ওদের স্বপ্ন কি সফল হবে না?"

Post a Comment